1. babuibasa@gmail.com : editor :
  2. rokunkutubdia@gmail.com : reporter :
  3. rokunkutubdia@yahoo.com : Rokiot Ullah : Rokiot Ullah
বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৪০ অপরাহ্ন

ঘুমধুম ইউপির চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে নানা সনদ সরবরাহ করতেন সচিব এরশাদুল হক!

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৩৫ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক,উখিয়া,কক্সবাজার

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ৩ নং ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজের স্বাক্ষর জালিয়াতির মহোৎসব চালিয়েছে সচিব মোঃ এরশাদুল হক।২২ জানুয়ারী বিকেলে চেয়ারম্যান কার্যালয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে মতবিনিময় কালে এমন বিভিন্ন তথ্য-উপাত্য তুলে ধরেন চেয়ারম্যান নিজেই।

তাতে জানা যায়,ইউপি সচিব এরশাদুল হক দীর্ঘ সময়কাল ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পদে থাকার সুবাদে ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম সনদ,জাতীয়তা সনদে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াত করে অহরহ কাগজপত্র সরবরাহ করেছেন।চেয়ারম্যানের প্রদর্শন করা কয়েকটি কাগজে চেয়ারম্যানের আসল স্বাক্ষর এবং এরশাদুল হকের জাল স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখা যায় অনেকটা তফাৎ। এরশাদুল হক অহরহ স্বাক্ষর জালিয়াত করে ভয়াবহ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে মোটাংকের টাকা।
জন্ম সনদ সংশোধন করতে চেয়ারম্যানের প্রয়োজন পড়েনা।সচিব মোটা টাকার বিনিময়ে সংশোধন করে দেন।তাতে আশ্চর্যের বিষয় হল একজনের জন্ম সনদ সংশোধন করতে গিয়ে অন্যের জন্ম সনদের নাম্বার ব্যবহার করেছেন,সনদ দিয়েছেন আরেকজনের নামে।

অনলাইন সংশোধন,জন্ম সনদ তৈরিতে চৌকিদার, মেম্বারের স্বাক্ষর বিহীন আবেদন কত কার্যকর করেছেন এরশাদুল হক অজানাই থেকে গেল।

একটি জন্ম সনদ পাওয়ার আবেদনে শুরুতেই ওয়ার্ড চৌকিদার, ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য, সচিব স্বাক্ষর করে চেয়ারম্যান বরাবর আদেশের স্বাক্ষরের জন্য দেন।তাতে সবার স্বাক্ষর দেখেই চেয়ারম্যান স্বাক্ষর দিয়ে দেন।পরবর্তী তৈরী করা উদ্যোক্তার স্বাক্ষর, সচিবের স্বাক্ষর আগেভাগেই দেওয়া হয়েছে।এমন জন্ম সনদ একত্রে কয়েকশত চেয়ারম্যানের নিকট স্বাক্ষর করাতে দেন।যাতে সচিবের কন্ট্রাক্টে নেওয়া গুলো স্বাক্ষর করিয়ে বাণিজ্য করিয়ে নিতে পারেন।

ধারাবাহিকতায় প্রচুর সংখ্যক জন্ম সনদে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করাতে গেলে ধরা পড়ে রোহিঙ্গার নাম।খোদ চেয়ারম্যান নিজেই বহু জন্ম সনদ,জাতীয়তা সনদ আটকিয়ে দেন রোহিঙ্গা পরিচয়ী এবং সন্দেহজনক হওয়াতে।তেমনি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে সচিব এরশাদুল হক কর্তৃক সরবরাহ করা জন্ম সনদ দিয়ে
রোহিঙ্গা শিশু ঘুমধুম হাইস্কুলে ভর্তি হয়।জানতে পেরে চেয়ারম্যান তাদের রোহিঙ্গা সনাক্ত হওয়াতে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর ভর্তি বাতিলের আবেদন করলে ,ভর্তি বাতিল করে।যা চেয়ারম্যানের নিকট ডকুমেন্টস সংরক্ষণ করে রেখেছেন।

একের পর এক অনিয়ম,দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা,টাকা দাবী সহ নানা অপকর্মের কারণে গত পরিষদের পুরো ফোরাম সচিব এরশাদুল হকের বিরুদ্ধে শাস্তি চেয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছিল।পরিষদের চেয়ারম্যান, সকল ইউপি সদস্য-সদস্যাদের স্বাক্ষরিত ব্যবস্থাগ্রহণপত্র তৈরী করা হয়।যার তারিখ ২৫/০৪/২০১৯ ইংরেজী।

ধারাবাহিকতায় রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে যারা জন্ম সনদ,প্রত্যয়নপত্র,বাবা-মা আত্নীয় সেজে প্রতেক্ষ্য ও পরোক্ষ ভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের আসামী করা হয়। গত ৩১/১২/২০২০ ইংরেজী তারিখ দায়ের করা মামলায় সচিব এরশাদুল হক কে ৪ নং আসামী করা হয়। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু জাফর ছালেহ বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা দায়ের করে।এতে ৩৩ জন কে আসামী করা হয়।সচিব এরশাদুল হক ক্যাম্পে আশ্রিত এক রোহিঙ্গা পরিবারে সকল কে জন্ম সনদ সরবরাহ করার জন্য গোপনে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নিতে গেলে ধরা পড়ে।আবেদন ফরমে ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ীতে বসবাস দেখানো হয়েছে।সেখানে রোহিঙ্গা মাহাথির মোহাম্মদ, মোহাথির নুরুল হুদা,মোহাথির ফাতেহ, পিতা- ইলিয়াছ,মাতা- নুরনাহার লিখেছেন সচিব।সবই রোহিঙ্গা।

আরেক সলিমা নামের যে মহিলাটির নাম লিখেছে জন্ম সনদ ও জাতীয়তা সনদে,সে মহিলাটি রোহিঙ্গা। তার নামের জন্ম সনদ ও জাতীয়তা সনদ সচিব এরশাদুল হক নিজেই লিখে আগাম সীল মেরে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর আদায়ের চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়ে।চেয়ারম্যান এ দুটি সনদ আটকিয়ে রাখেন।এহেন অহরহ জন্ম সনদ,জাতীয় সনদ,প্রত্যয়নপত্র,ট্রেড লাইসেন্স চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে সরবরাহ করার গুরুতর অভিযোগের শেষ নেই।

চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ জানান,প্রায় সময় সার্ভার সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে সচিব এরশাদুল হক রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করেছেন তাহার অগোচরে।সচিব নিজেকে রক্ষায় আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে।নানা অপবাদ,অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।আমি সাংবাদিকদের প্রথম অবগত করি রোহিঙ্গা ভোটার সম্পর্কে। সাংবাদিক ভাইয়েরা সরেজমিনে এসে জানতে পারবেন কারা,কিভাবে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের ভাবর্মুতি ক্ষুন্ন করতে তৎপর।

অপর দিকে ঘুধধুম ইউপির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজের করা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সচিব এরশাদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এসব চেয়ারম্যানের অপপ্রচার মাত্র। আমি শীঘ্রই সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সব তথ্য তুলে ধরবো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু জাফর ছালেহ বলেন,ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ সচিব এরশাদুল হকের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা চলমান রয়েছে।চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টা চেয়ারম্যান, পরিষদ বুঝবে।যেহেতু ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকার বিভাগের অংশ তাই।

আপনি সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ চট্টগ্রাম টুডে কর্তৃক সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews
error: Content is protected !!