1. balaram.cox@gmail.com : balaram das : balaram das
  2. babuibasa@gmail.com : editor :
  3. news24nazrul@gmail.com : Nazrul Islam : Nazrul Islam
  4. rokunkutubdia@gmail.com : reporter :
  5. rokunkutubdia@yahoo.com : Rokiot Ullah : Rokiot Ullah
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৪৮ অপরাহ্ন

কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত মৌলবী বখতিয়ারের পুরুষশূণ্য পরিবারে দিনরাত নারী কন্ঠের কান্না….

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০
  • ২১ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক,উখিয়া(কক্সবাজার)

কক্সবাজারের টেকনাফ থানার (সদ্য বরখাস্ত হওয়া)
ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত বখতিয়ারের পরিবারের সদস্যরা আতংকে দিন কাটাচ্ছে। মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে ৩ ছেলে ফেরারী জীবন অতিবাহিত করছে। বর্তমানে পুরুষশূণ্য নিহত বখতিয়ারের পরিবার।অসুস্থ স্ত্রী শাহীনা আকতার স্বামী-সন্তান ও সর্বস্ব হারিয়ে বাকরুদ্ধ প্রায়।দিনে কান্নার শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয়দের অনেকেই জানান।যে কান্না রাতগভীরেও শোনা যায়। নারী কন্ঠের এই কান্নায় অনেকের মনকে শোকাচ্ছান্ন করে তুলে ।যে কান্না বখতিয়ার মেম্বারকে হত্যার পর থেকে শুরু হয়েছে।এ কান্না কবে নাগাদ থামবে সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউ জানে না।এই কান্না ওসি প্রদীপ সৃষ্টি করে গেছে জ্বলজ্যান্ত একজন ধর্মভীরু মানুষকে নির্দয়ভাবে হত্যা করে।

১০ আগস্ট (সোমবার) উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালংস্থ নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের শাহীনা জানান, ঘটনার দিন (২৩ জুলাই)আসামী শনাক্ত করিয়ে দেয়ার কথা বলে উখিয়া থানার ওসি মর্জিনার ডাকে বাড়ি থেকে বের হয় তাঁর স্বামী। দরজা খুলে দেখা গেছে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ তাঁর সঙ্গীয় ফোর্সসহ তাঁর স্বামীকে নিয়ে যায়।

পরের দিন পুনরায় টেকনাফের ওসি প্রদীপ ও উখিয়ার ওসি মর্জিনা বাড়িতে এসে বাজার ইজারা, ঘর ও দোকান ভাড়ার টাকা সহ বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, জায়গা জমির কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

ওই দিন ভোররাতে খবর আসে তাঁর স্বামী টেকনাফস্থ ওয়াব্রাং এলাকায় পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। অত্যন্ত দূ:খের বিষয় তাঁর স্বামীর নামে মাদক সংশ্লিষ্ট কোন অভিযোগ বা মামলা ছিল না কোন থানায়। তাঁর স্বামীকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে। একই সাথে স্বামীকে হত্যা করার পর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াসহ ৩ ছেলের বিরুদ্ধে মাদক,অস্ত্র এবং পুলিশী কাজে বাঁধা দেয়ার নামে তিনটি মিথ্যা মামলা রুজু করে পুলিশ।

এ সময় তিনি আরো বলেন, তাঁর স্বামীকে হত্যার পর থেকে কুতুপালংয়ের একটি প্রভাবশালী মহল তাদের দোকানপাট ও জমি দখলের পায়ঁতারা চালাচ্ছে।

নিহত বখতিয়ার মেম্বারের পুত্রবধু রুমানা শারমিন সাদিয়া বলেন, বর্তমানে আমরা আতংক ও হতাশাগ্রস্থ হয়ে দিন কাটাচ্ছি। গত ২৩ ও ২৪ জুলাইয়ের ঘটনা সম্পর্কে ইতোপূর্বে গণমাধ্যমে বলা হয়েছে। সে বিষয়ে পুন: আলোচনা করতে চাচ্ছি না। পুলিশ কর্তৃক নিয়ে যাওয়া আমার শ্বশুরের জায়গা-জমির দলিলপত্র ফেরত দেয়া হউক। একই সময় স্বামীসহ দুই দেবরের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী করেন এবং লুটকৃত কাগজপত্র ও নগদ টাকা ন্যায় বিচারের আশায় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

বখতিয়ারের শ্যালক মাহমুদুল করিম বলেন, বখতিয়ার মেম্বারের পরিবার বর্তমানে খুবই অসহায় এবং আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তিনি জনপ্রতিনিধিত্বসহ দীর্ঘ ৩২ বছরের যাবত বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করে আসছিলেন। এছাড়াও সকল সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য একজন অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করেছেন। যার প্রমাণ তাঁর জানাযার নামাজে দেখেছে মানুষ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মর্জিনা আকতার বলেন,বখতিয়ারের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এ বিষয়ে কেউ আইনী সহযোগিতা কামনা করেনি কিংবা জানায়নি। তবে শুধু বখতিয়ারের পরিবার নয়, উখিয়ার যে কোন ব্যক্তি বা পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। তিনি বখতিয়ারের বাড়ি থেকে লুট হওয়া জায়গা-জমির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ফেরত পাওয়ার বিষয়ে টেকনাফ থানায় যোগাযোগ করার কথা বলেন।

আপনি সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ চট্টগ্রাম টুডে কর্তৃক সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews
error: Content is protected !!