1. balaram.cox@gmail.com : balaram das : balaram das
  2. babuibasa@gmail.com : editor :
  3. news24nazrul@gmail.com : Nazrul Islam : Nazrul Islam
  4. rokunkutubdia@gmail.com : reporter :
  5. rokunkutubdia@yahoo.com : Rokiot Ullah : Rokiot Ullah
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৩৯ অপরাহ্ন

শুনে আশ্চর্য হলাম ! ফোন দিলাম স্যারকে-নাজনিন সরওয়ার কাবেরী

  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০
  • ১৩৫৬ জন সংবাদটি পড়েছেন

 

ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান খান : কয়েকবছর আগে হঠাৎ স্থানীয় পত্রিকার খবরে জানতে পারলাম দিনদুপুরে কক্সবাজার কলেজের মাঠ দখল হচ্ছে। আশ্চর্য হলাম। ফোন দিলাম প্রিন্সিপাল স্যারকে। খুব অস্থির কন্ঠে বললেন, আমাদের একটু বাঁচান,একটু দেখতে আসুন। আমি তাত্ক্ষণিক বললাম,স্যার আমি আসতে চাই।তিনি বললেন,আগামীকাল সতেরই মার্চ,
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন।আপনি সেই অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে আসুন।আমি দাওয়াত নিলাম,উদ্দেশ্য কলেজ পরিদর্শনে ভূমিদস্যুতার প্রকোপ দেখা।আমি ফেসবুকে নিন্দা জানালাম। এর মধ্যে কলেজের সাবেক ছাত্ররা আমার সাথে যোগাযোগ শুরু করলেন। শুনলাম, দিনে দুপুরে মাঠ দখলে কলেজের ছাত্র থেকে শুরু করে ককসবাজার আসনে বসা মানুষটি ও মাথা ঢুকিয়েছেন। উদ্দেশ্য মাঠ দখল করে রাস্তা বানিয়ে পেছনের জায়গাটির বানিজ্যিক মূল্যমান তৈরী করা।কলেজ প্রিন্সিপাল দীর্ঘদিন নিজ নিরাপত্তা বিগ্নিত করে মামলা মোকদ্দমা করছেন ভূমিআগ্রাসীদের বিরুদ্ধে। বিশ্বাস হচ্ছিলনা। আমি আঠারই মার্চ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিলাম। সতেরই মার্চ যথারীতি আমি কলেজ কম্পাউন্ডে’ আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর জন্ম বার্ষিকী তে হাজির হলাম। যেখানে স্যার নিজেই সভাপতিত্ব করছেন। আমি ঢুকবার সাথে সাথেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হলাম।মন্চে বসলাম।মূহুর্তেই দেখি বিশ্রী শ্লোগান ধরে একদল ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসী স্যারের গায়ের দিকে এগিয়ে এসে জানতে চাইল, কে আমাকে এখানে দাওয়াত দিয়েছে।
তারা অনেকেই ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করলো।কেউ কেউ চেয়ার টেবিল ভাম্গা শুরু করলো।স্যার ও সমস্ত শিক্ষকরা অসহায় কিংকর্তব্যবিমূড়। আমি অবাক হয়ে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কতটুকু ভূমিদস্যুতার কবলে তা প্রত্যক্ষ করে চরম হতাশ হলাম।আমি মাইক্রোফোন ধরে সন্ত্রাসীদের বললাম, কলেজের মাঠ তবে তোমরাই দখল করছো! তোমাদের মাশুল দিতে হবে। পিতৃবয়সী স্যারদের বাঁচাবার জন্য আমি বেরিয়ে আসলাম।আল্লাহর কাছে মনে মনে তাদের শারীরিক নির্যাতন থেকে রক্ষার জন্য দোয়া করছিলাম।পরের দিন যথারীতি আমরা সচেতন জনতার সাথে প্রতিবাদ সমাবেশ করলাম। স্মারকলিপি দিতে গিয়ে তদানিন্তন এসপি ইকবাল সাহেব বললেন,এটাতো আপনার বাপের কলেজ নয়,আপনি কেন এই কলেজ মাঠ রক্ষা করবেন! আমি আরও হতবাক হয়ে বললাম,আপনি বেতন নিয়ে এদেশের চাকরামি করেন।আর আমি বিনা বেতনে গোলামি করি।দেশ রক্ষায় আমাদের তাই করতে হবে।
এক পর্যায়ে আমি উত্তেজিত হয়ে বেরিয়ে আসলাম। কিন্তু জেলা প্রশাসক মহোদয় সাড়া দিয়ে বললেন, তিনি সহযোগিতা করবেন ভূমিদস্যুতা নিরসনে। আঠারই মার্চ চারজন
ভূমিদস্যুকে ইউএনও সাহেব
ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করলেন এবং দুজনকে দুবছরের জেল জরিমানা করলেন। পরের দিন, এই সংক্রান্ত গোল টেবিল বৈঠকে, আসনে বসা মানুষটির সাথে ইউ এনও ও জেলাপ্রশাসকের বিতন্ডা হয়। ক্ষমতাধর বললেন, জেলা প্রশাসন কাবেরীর কথায় চলছে, মান্যবর ডিসি সাহেব বললেন নাজনীন সরওয়ার কাবেরী সঠিক পথে আছেন। আমরাও তাই উনার বিরুদ্ধে যেতে পারিনা।
যখন সবকিছু সন্ত্রাসীদের বিপক্ষে উনিশে মার্চ প্রিন্সিপাল সহ আঠার জন শিক্ষককে সেই নরপশুরা অপিসে তালা মেরে নির্যাতন করেছিল। মেয়র মুজিব ভাই প্রশাসনের সাথে গিয়ে শিক্ষক বৃন্দকে উদ্ধার করেন,চার ঘন্টা আটকের পর। কক্সবাজারের প্রতি মানুষ আসলে ন্যায়ের পক্ষে ছিলেন।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এই ঘটনায় জড়িত ভূমি সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের কমিটিকে বান্চাল করেছিল। দুঃখ জনক ভাবে, কলেজ ক্যাম্পাস বাঁচানোতে সফল ভূমিকা রাখায় তখনকার উত্তেজিত পরাস্ত নেতা ইউএনও প্রিন্স সাহেবকে বান্দরবন ট্রান্সফার করিয়েছিল।
এই কলেজ টাকে রক্ষার ভূমিকার
পাদপিঠে জনাব ফজলুল করিম স্যারের আন্তরিক সততা ছিল মূখ্য।
ক্ষমতাবানের লোভের দস্যূতা থেকে
ক্যাম্পাস খানা সযত্নে তিনি জেলার মানুষগুলোর জন্য সংরক্ষণ করেছিলেন নিঃস্বার্থ নিরলস। আমাদের প্রচেস্টায়
কলেজ আজ শত্রুমুক্ত।

সালাম স্যার। বেঁচে থাকুন।

নাজনিন সরওয়ার কাবেরী
সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ
কক্সবাজার জেলা ৷

আপনি সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© ২০২০ চট্টগ্রাম টুডে কর্তৃক সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews
error: Content is protected !!